শেষ বয়সে বিশ্ববাউল
ভিতর-বাহির আউল-ঝাউল,
বেঁধেছি ঘর
পথের ওপর;
সেই পথও কি মিথ্যা বা ভুল!
কোথায় দুরে নীল সরোবর
পদ্ম ফোটে অষ্টপ্রহর;
পাখিরা গায়
ফুল ঝরে যায়,
মন্দাকিনী মগ্ন নিথর।
নিজের ঘরে নিজেই বাউল
এই বয়সে আউল-ঝঅউল,
যা ছিলো তা
ছিন্ন কাঁথা,
সব হারিয়ে নিঃস্ব বাউল।
কোথায় যাই, কার কাছে যাই
সুবর্ণ সেই আলোর রেখা
থাকে না এই জলের রেখা
এই জীবনে সবাই একা।
একলা ঘর, শূন্য ফাঁকা
সুখের কোছও বিষাদমাখা,
উদাস বাউল ঘুরছে পথ
ব্যর্থ-বিফল মনোরথ।
দুর আকাশে আলোর রেখা
আর দুজনের হয় না দেখা।
হাওয়ায় ওড়ে বাদামী চুল
স্বপ্ন যেন আকাশী ফুল;
এই জীবনে হয় না দেখা
সুবর্ণ সেই আলোর রেখা।
কোথায় যাই, কার কাছে যাই
আমার ভেতরে যেন ফুটে উঠি
স্বপ্নের ভেতর, স্মৃতির ভেতর, এই
একার ভেতর আমি
অনন্তকাল ডুবে আছি;
বার্চবন, স্নেজগাড়ি, দূরের ঘন্টাধ্বনি
আমার স্মৃতির মধ্যে তোলপাড় করে ওঠে
সুদূর বাতাস, ধূ-ধূ ঝাউবীথি-
দেখি সূর্যাস্তের ছায়ার ভেতর আরো অশরীরী
নগ্ন নর্তকীরা সব
আরো স্বপ্নের ভেতর
আরো স্মৃতির ভেতর
আরো ছায়ার ভেতর ক্রমাগত ডুব-সাঁতার
দিতে দিতে, ডুব-সাঁতার
দিতে দিতে
এই অপরাহ্নে খুব ক্লান্ত একা একটু বসতি চাই
স্থিতি চাই আমি;
আমি চাই আমার ভেতরে অপরূপ ম্লান কুয়াশায়
যেন ফুটে উঠি।