আবৃত্তি ঘর

কী বললেন, বিশ্বায়ন?

আমি আমেরিকায় গিয়ে শুনে এলামলোকে ওখানেও বলছে:দিনকাল যা পড়েছেতুমি তোমার খাবারের কাছে ঠিক সময়েপৌঁছতে না পারলেঅন্য একজন পৌঁছে যাবে। আরে, এ তো আমাদের দেশেগরিব লোকেরা করত।এখন বছরে তিনবার ধান হয় বলেএকজন ভিখিরি, একজন পাগলের খাবারকেড়ে নেওয়ার আগে দুবার ভাবে। তবে গতকাল শুনলামমাল্টিন্যাশনালে চাকরি করতেন অংশুমান রায়কী ভাল, তার অফিস তাকে…

হেমন্ত

সবুজ পাতার খামের ভেতরহলুদ গাঁদা চিঠি লেখেকোন্ পাথারের ওপার থেকেআনল ডেকে হেমন্তকে? আনল ডেকে মটরশুঁটি,খেসারি আর কলাই ফুলে আনল ডেকে কুয়াশাকেসাঁঝ সকালে নদীর কূলে।সকাল বেলায় শিশির ভেজাঘাসের ওপর চলতে গিয়েহাল্কা মধুর শীতের ছোঁয়ায়শরীর ওঠে শিরশিরিয়ে। আরও এল সাথে সাথেনুতন গাছের খেজুর রসেলোভ দেখিয়ে মিষ্টি পিঠামিষ্টি রোদে খেতে বসে। হেমন্ত তার…

জানতে চেয়েছিলে….জানতে পারোনি….

জানতে চেয়েছিলে-এখনো কীভাবে পাই এমন অমিয় তেজ-কীভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে ওড়াই-শব্দের বাগানে আজো- কবিতার চকচকে ঘুড়ি- জানতে পারোনি হায়- সব হয়, সব পারি, সে শুধু তোমার জন্যইযখন শুদ্ধ ভোরে – শুধু তোমার ‘মুগ্ধ দুচোখ’ মনে করি !

বিভব’ খুঁজে দিলাম শেষে ‘হৃদয়’ জলাঞ্জলী

বিত্ত ছাড়া আমার প্রেমের সবটা ছিল খাঁটি-বললে তুমি ‘টাকা’ই আসল- আর বাকী সব ফাঁকি। তোমার জন্য ‘বিভব’ খুঁজে- ‘বিবেক’ দিলাম বলীঅর্থ আয়ের নেশায় দিলাম- ‘হৃদয়’ জলাঞ্জলী। এখন দেখি- ভাসছো তুমিই কষ্টে, প্রতি রাতে-বিত্ত নেশায় কী ভুল জড়ায়-বুঝলে সেটাই শেষে !

সুখের খাতা, ব্যথার খাতা

সুখের খাতায় যে নাম তোমার -‘নীল’ রঙে জ্বলজ্বলে-ব্যথার খাতায় সে নাম লুকাই- ‘সাদা’র অন্তরালে। তোমার দেওয়া দুঃখগুলো লুকিয়ে রেখে দূরে-অনন্ত এক আড়াল দিলাম- হৃদয় অন্তঃপুরে। জানলো সবাই- খুব রেখেছো- সুখের সিংহাসনেমাঝ রাত্রির চন্দ্র জানে-কী ব্যথা দাও- প্রাণে! তোমার দেওয়া ব্যথার সাগর সঙ্গোপনে শুষেসুখের কথাই খুব লিখেছি- কষ্ট কালির শীষে। জানলো…

তালাবদ্ধ রেখোনা প্রেম

আর রেখোনা তালায় এটেমন যেটি চায় নিত্য – বাসলে ভালো কি আর ক্ষতি –জানলে কেউ এই সত্য ? মনের তালার চাবি খোলায়চোখ কেন হয় ক্ষুব্ধ ?বাসলে ভালো কি আর ক্ষতি –জানলে জগৎ শুদ্ধ ?

চারপাশে যতো পুষ্প ঝরুক…

চারপাশে যতো পুষ্প ঝরুক-না পাওয়া স্বর্গের ফুল- সে যে ‘তুমি’- চারপাশে যতো জ্যোৎস্না ঝরুক-না দেখা পূণ্য পূর্ণিমা- সেও ‘তুমি’ ! তুমি না থাকলে আর কে নেবে উচ্ছসিত কথার ভেলায় ?অপরূপ, অন্য আকাশের রথে ? চারপাশে যতো শব্দ বাজুক-না শোনা শুদ্ধ স্বর – সেও তুমি !

অন্য এক বৃষ্টি বিকেল

বৃষ্টিটাতো ভালোই ছিল- শীতল জলের গুঁড়িতোমার স্মৃতি চটজলদি – খুললো ব্যথার ঝুড়ি। ক্ষোভ গুলো সব শামিল হলো- দেই ছড়িয়ে ইথারেতোমার টোকাই পড়লো বুঝি- হৃদয় ছেঁড়া সেতারে ! সুর জাগলো তোমার তৃষায়, বিকেল যেন অন্যএকটি নীরব প্রীতির ছোঁয়ায়- কষ্টেরা সব ধন্য !

স্বপ্নগুলোই পুড়তে থাকে…

যতোই ভাঙে গাড়ীর কাঁচ আর যতোই পোড়ে রেল-বগী,স্বপ্নগুলোই পুড়তে থাকে, ‘বোধ’ যেন আজ মন-রোগী । মরছে মানুষ, মরছে জীবন, প্রাণ যেন এক পণ্যআবাক চোখে বিশ্ব দেখে – রাজনীতির এই দৈন্য । তোমার আমার মতের মাঝে একশোটা এক দ্বন্দ্ব,মানুষগুলো জিম্মি করে চলছে খেলা অন্ধ…. ।

পার্থক্য যেরকম

ফুলগুলো সব তোমার মতো- সফল সুখে আঁকাভুল-গুলো সব আমার মতো- ব্যর্থ ‘কালো’-য় ঢাকা। রোদের সকাল তোমার মতো- তৃপ্ত আলোয় হাসেবৃষ্টি বিকেল আমার মত – নিঃস ব্যথায় ভাসে । পূর্ণিমা রাত তোমার মতো- ‘বিজয়’ ছড়ায় চাঁদেঅমাবস্যা আমার মতো- ‘কালো’র কষ্টে কাঁদে। মেঘগুলো সব তোমার মতো-‘খুব খুশি’ আসমানেবৃষ্টিগুলো আমার মতো- কষ্ট ফোটায়…

প্রশ্ন , চিরন্তন

কেন অমন চমক চোখে চুলের খোঁপা খুললে ?হৃদয় ছিল শান্ত নদী, প্লাবন কেন তুললে? না দেখা ঝড় – নিরুত্তাপে, ছিলাম আমি ভালোএখন শীতে খুঁজতে থাকি- তোমার রোদের আলো। দেবেই যদি অমৃত প্রেম, ‘বিভেদ’ কেন গড়লে ?নামবে যদি এমন নীচে, চূড়ায় কেন চড়লে ? কোন দোষেতে শাস্তি দিয়ে ভুলের দোলায় দুললে…

অনুভবে প্রেম

তোমার কাছে ‘ভালবাসা’ হয়তো শুধুই পণ্যআমার কাছে মূল্য ভীষণ, হই খুঁজে তাই, ধন্য। তোমার কাছে প্রেম শুধু ‘তাপ’- ভীষণ রকম বন্যআমার কাছে স্নিগ্ধ ‘আকাশ’- সংজ্ঞাটি তার ‘অন্য’।

কেউ কথা রাখেনি

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনিছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিলশুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবেতারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমীআর এলোনাপঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি। মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুরতোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবোসেখানে…

আত্মকাহিনী

রোজ সকালে শুয়ে শুয়ে ভাবি উঠি কিনা উঠি,সামনে টেবিলে চায়ের পেয়ালা সেকা পাউরুটি।সতেজ কাগজে পরিচিত ঘ্রাণ, চেনা সংবাদবন্যা, মন্ত্রী, শান্তির বাণী, শরিকি বিবাদ।জানালার পাশে এই সংসার দিল তার ডাকথাক আলস্য, এইবার তাহলে উঠে পড়া যাক।গত রাত্রিকে বিছানায় ফেলে বাইরে এলামচোখে মুখে গায়ে পৃথিবী লিখলো সূর্যের নামসে নাম থাকবে চিরদিন ধরে…

ইচ্ছে

কাচের চুড়ি ভাঙ্গার মতন মাঝে মাঝেই ইচ্ছে হয়,দুটো চারটে নিয়ম কানুন ভেঙে ফেলিপায়ের তলায় আছড়ে ফেলি মাথার মুকুটযাদের পায়ের তলায় আছি, তাদের মাথায় চড়ে বসিকাচের চুড়ি ভাঙ্গার মতোই ইচ্ছে করে অবহেলায়ধর্মতলায় দিন দুপুরে পথের মধ্যে হিসি করি।ইচ্ছে করে দুপুরে রোদে ব্ল্যাক আউটে হুকুম দেবারইচ্ছে করে বিবৃতি দেই ভাওতা মেরে জনসেবারইচ্ছে…

বুকে যে ঝর্ণার উৎস

বুকে যে ঝর্ণার উৎস সে কোন গভীরেহারায়, অথবা কোন ভ্রান্ত মরুপথেবৃষ্টির ফোটার মতো শুণ্যে ঘুরে ফিরেফিরে যায় সায়াহ্নের জয়দৃপ্ত রথে।আমিও দেখিনি তাকে, নিজের মুকুরমনে হয় ভেঙে ভেঙে ছড়িয়েছি ভুলেকখনো নিভৃতে শুনি যে নির্ঝর সুরচিরকাল অদেখা সে সিংহদার খুলেহৃদয়ের অন্ধকার সাতমহলায়অনেক ঘুরেছি আমি জোনাকীর মতো,দেখেছি স্বপ্নের নামে স্মৃতিতে হারায়যা কিছু কৃপণ…

দেখা

ভালো আছো?– দেখো মেঘ বৃষ্টি আসবে।ভালো আছো? – দেখো ঈশান কোনের আলো, শুনতে পাচ্ছো ঝড়?ভালো আছো?-এইমাত্র চমকে উঠলো ধপধপে বিদ্যুৎ ।ভালো আছো?– তুমি প্রকৃতিকে দেখো।– তুমি প্রকৃতি আড়াল করে দাঁড়িয়ে রয়েছো।আমিতো অণুর অণু, সামান্যর চেয়েও সামান্য।তুমি জ্বালাও অগ্নি, তোল ঝড়, রক্তে এতো উন্মাদনা।– দেখো সত্যিকার বৃষ্টি, দেখো সত্যিকার ঝড়।তোমাকে দেখাই…

দুঃখ

একসময় আমি দুঃখের কথা দুঃখের সুরে বলতামতখন দুঃখকে চিনতামনাকিংবা দুঃখ ছিলনা তখন, আকস্মিকবৃষ্টিতে দুলত বিষাদের পাতলা পর্দাপৌণে তিনশো মাইল দূরে ছুটে গেছে দীর্ঘশ্বাসঅসংখ্য নীলখাম জঠরে নিয়ে গেছেদুপুরবেলার অভিমানছেড়া চটি পায়ে দিনরাত ঘুরে ঘুরে ,সঙ্গে বহন করতাম খালি প্যাকেটের মতনখুনখারাপহীরন্ময় ভোরবেলাগুলি গায়ে লেগে থাকতহৃদয়-শোণিতসুখী ছিলাম, সুখী ছিলাম, ভীষণ সুখী ছিলামনা?এখন কেউ…

মুক্তি

একজন মানুষ মুক্তিফল আনতে গিয়েছিল,সে বলেছিল, আমি ফিরে আসবোপ্রতীক্ষায় থেকো।জানিনা সে কোথায় গেছেকোন হিম নিঃসংগ অরণ্যেবা কোন নীলিমাভুক পাহাড় চুড়ায়জানিনা তার সামনে কত দুস্তর বাধাজানিনা সে সংগ্রাম করছে কোনঅসহনীয়ের সঙ্গে।সে মুক্তিফল আনবে বলেছিলসে বলেছিল প্রতীক্ষায় থাকতেআমি দ্বাদশ বৎসর থাকবো তার জন্য পথ চেয়েতারপরেও সে না ফিরলেআমাকে যেতে হবে……আমিও না ফিরলে…

জন্ম হয়না, মৃত্যু হয়না

আমার ভালোবাসার কোন জন্ম হয়নামৃত্যু হয়না–কেননা আমি অন্যরকম ভালোবাসার হীরের গয়নাশরীরে নিয়ে জন্মেছিলাম।আমার কেউ নাম রাখেনি, তিনটে চারটে ছদ্মনামেআমার ভ্রমণ মর্ত্যধামে,আগুন দেখে আলো ভেবেছি, আলোয় আমারহাত পুড়ে যায়অন্ধকারে মানুষ দেখা সহজ ভেবে ঘুর্ণিমায়ায়অন্ধকারে মিশে থেকেছিকেউ আমাকে শিরোপা দেয়, কেউ দু’ চোখে হাজার ছি ছিতবুও আমার জন্ম-কবচ, ভালোবাসাকে ভালোবেসেছিআমার কোন ভয়…

এখন

দারুণ সুন্দর কিছু দেখলে আমার একটু একটুকান্না আসে।এমন আগে হতনা,আগে ছিল দুরন্ত উল্লাস,আগে এই পৃথিবীকে জয় করে নেবার বাসনা ছিলএখন মনে হয় আমার এই পৃথিবীটাবিলিয়ে দেই সকলকেপরশুরামের মত রক্তস্নান সেরেচলে যাই দিগন্ত কিনারেযত সব মানুষকে চিনেছি, তাদের ডেকে বলতে ইচ্ছে হয়নাও, যার যা খুশি নাও,শিশির ভেজা মাঠে শুয়ে থাক কিছু…

রাগী লোক

রাগী লোকেরা কবিতা লিখতে পারেনাতারা বড্ড চ্যাঁচায়গহন সংসারের ম্লান ছায়ায় রাগী লোকেরা অত্যন্ত নিঃসঙ্গতারা নিজের কন্ঠস্বর শুনতে ভালোবাসে।পাহাড়ের পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়া জলপ্রপাতের কাছেআমি একজন রাগী লোককে দেখেছিলামতার বাঁকা ভুরু ও উদ্ধত ভঙ্গিমার মধ্যেও কি অসহায়একজন মানুষ–নদীর গতিপথ কেন খালের মতো সরল নয়এ নিয়ে লোকটা খুব রাগারাগি করছিল!হাতে এক গোছা…

ভোরবেলার মুখচ্ছবি

ভোরবেলার মুখচ্ছবি কোথায় লুকিয়ে রাখোসারাদিন? দিনগুলি রেফ ও র-ফলা দিয়ে লেখাস্নেহ গলে যায় রোদে, রুমকোপে বেড়ে ওঠে ঝাঁঝহাসি হাসি মুখগুলি এ ওর দু’কানে ঢালে বিষপাখি নেই, খাঁচাগুলো নেচে যায় অথবা দৌড়ায়জুতোর তলার ধুলো ধুলো নয় প্রচ্ছন্ন বারুদতোমায় দেখিনা কেন, দেখেও চিনিনা—ভোরবেলার মুখচ্ছবি কোথায় লুকিয়ে রাখোসারাদিন?

মায়াসুন্দর

ফণা তোলা সাপের মতন এমন বিচিত্র সুন্দর আর কি আছেঅথচ তা পাখির মতন সুন্দর না !তারপর সাপ চুপি চুপি ছোবল মারে পাখির বাসায়রাত্রিতে গড়িয়ে পড়ে কান্নাসুন্দরের মধ্যে প্রচন্ড নিষ্ঠুরতা হা-হা করেঅসহায় পাখি মা একটু দূরে ডানা ঝাপটায়তার ঠোটে ধরা তখনও একটি প্রজাপতিপুরো দৃশ্যটি ঝলসে ওঠে যুবতী জ্যোৎস্নায়অপরূপ দেবদারু গাছটি আরও…

ফেরা

এমনভাবে হারিয়ে যাওয়া সহজ নাকিভিড়ের মধ্যে ভিখারী হয়ে মিশে যাওয়া?এমন ভাবে ঘুরতে ঘুরতে স্বর্গ থেকে ধুলোর মর্ত্যেমানুষ সেজে একজীবন মানুষ নামে বেঁচে থাকা?সমুদ্রেরও হৃদয় আছে, এই জেনে কি নারীর কাছেঅতলে ডুবে খুঁজতে খুঁজতে টনটনায় চক্ষুস্নায়ু !কপালে দুই ভুরুর স্বন্ধি, তার ভেতরে ইচ্ছা-বন্দীআমার আয়ু, আমার ফুল ছেড়ার নেশা,নদীর জল পাহাড়ে যায়,…

নিজের আড়ালে

সুন্দর লুকিয়ে থাকে মানুষের নিজেরই আড়ালেমানুষ দেখ নাসে খোজে ভ্রমর কিংবাদিগন্তের মেঘের সংসারআবার বিরক্ত হয়কতকাল না দেখা আকাশকতকাল নদী বা ঝর্ণায় আরদেখে না নিজের মুখআবর্জনা, আসবাবে বন্দী হয়ে যায়সুন্দর লুকিয়ে থাকে মানুষের নিজেরই আড়ালেরমণীর কাছে গিয়েবারবার হয়েছে কাঙ্গালযেমন বাতাসে থাকে সুগন্ধের ঋণবহু দূরের স্মৃতি আবার কখন মুছে যায়অসম্ভব অভিমানে খুন…

জনমদুখিনী

যতদিন ছিলে তুমি পরাধীনা ততদিন ছিলে তুমি সবার জননীএখন তোমাকে আর মা বলে ডাকেনা কেউলেখেনা তোমার নামে কবিতাবুক মোচড়ানো সুরে সেইসব গানগুপ্ত কুঠুরিতে মৃদু মোমের আলোর সামনে আবেগের মাতামাতিজনমদুখিনী মা কোনদিন স্বাধীনা হলেনাএখন তোমাকে আর ভুলেও ডাকেনা কেউআঁকেনা তোমার কোন ছবিকেউ কারো ভাই নয়, রক্তের আত্মীয় নয়নদীর এপার দিয়ে, নদীর…

শীত এলে মনে হয়

মাঠ থেকে উঠে ওরা এখন গোলায় শুয়ে আছেসোনালী ফসল, কত রোদ ও বৃষ্টির স্বপ্ন যেনস্নেহ লেগে আছেলাউমাচায়, গরু ও গরুর ভর্তা সবান্ধব পুকুরের পাশেমুখে বিশ্রামের ছবি, যদিও কোমরে গ্যাঁটে ব্যাথা । শীত এলে মনে হয়, এবার দুপুর থেকে রাতমধুময় হয়ে যাবে, যে রকম চেয়েছেন পিতৃপিতামহতাদের মৃত্যুর আগে ভেবেছেন আর দুটো…

পাহাড় চূড়ায়

অনেকদিন থেকেই আমার একটা পাহাড় কেনার শখ।… কিন্তু পাহাড় কে বিক্রি করে তা জানি না।… যদি তার দেখা পেতাম,দামের জন্য আটকাতো না।আমার নিজস্ব একটা নদী আছে,সেটা দিয়ে দিতাম পাহাড়টার বদলে।কে না জানে, পাহাড়ের চেয়ে নদীর দামই বেশী।পাহাড় স্থানু, নদী বহমান।তবু আমি নদীর বদলে পাহাড়টাইকিনতাম।কারণ, আমি ঠকতে চাই। নদীটাও অবশ্য কিনেছিলামি…

উনিশশো একাত্তর

মা, তোমার কিশোরী কন্যাটি আজ নিরুদ্দেশমা, আমারও পিঠোপিঠি ছোট ভাইটি নেইনভেম্বরে দারুণ দুর্দিনে তাকে শেষ দেখিঘোর অন্ধকারে একা ছুটে গেল রাইফেল উদ্যত।এখন জয়ের দিন, এখন বন্যার মত জয়ের উল্লাসজননীর চোখ শুকনো, হারান কন্যার জন্য বৃষ্টি নামেহাতখানি সামনে রাখা, যেন হাত দর্পন হয়েছেআমারো সময় নেই, মাঠে কনিষ্ঠের লাশ খুঁজে ফিরি।যে যায়…

সে কোথায়

বালির ওপরে কার তাজা রক্ত ? এদিকে ওদিকেচেয়ে দেখিকোনো হিংস্র পশু বুঝি বিদ্যুৎ চমকে এসেছিল ?বাতাসে নিষ্পাপ গন্ধ, কেউ নেই, সমস্ত শব্দওচুপ করে আছেউড়ন্ত আঁচল যেন নদীটির ঢেউ,হালকা মেঘের ছায়াঈষৎ কিনারে এসে পা ডুবিয়ে আমিহেট মুখে স্থির চেয়ে থাকিবালির ওপরে কার তাজা রক্ত ? এই ছায়াময় দিনেলুকিয়ে রয়েছে কোন হত্যাকারী…

আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি

আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশএই কি মানুষজন্ম ? নাকি শেষপুরোহিত-কঙ্কালের পাশা খেলা ! প্রতি সন্ধেবেলাআমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে, হৃদয়কে অবহেলাকরে রক্ত; আমি মানুষের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসেথাকি – তার ভেতরের কুকুরটা দেখব বলে। আমি আক্রশেহেসে উঠি না, আমি ছারপোকার পাশে ছারপোকা…

সারা দুনিয়ায়

সারা দুনিয়ায় এক দুর্নিবার চ্যাঁচামেচি, কেড়ে নিতা হবে !হবেই তো !যে না নেয়, তার মৃত্যু গাছের ডগায়!সারা দুনিয়ায় আজ অবিশ্রান্ত হুড়োহুড়ি ! কাল যেন শেষতার চিহ্ন,সূর্যাস্তের লাল আভা, পাশে পোড়া ছাই !সারা দুনিয়ায় আজ লজ্জাহীন রেষারেষি, কে পাবে অগ্রিমহাত খোলা,যে-হাত দেয়না কিছু, শুধু সব নেবে !সারা দুনিয়ায় আজ স্বার্থকতা-মৃত্যুপণ, তারই…

স্থির সত্য

বহুদিন আকাশ ভাসানো জ্যোৎস্নায়হেঁটে যাইনিনদীর কিনারায়একটি ঘাসফুল ছিঁড়ে নিয়ে ছুঁড়ে দেইনি স্রোতেবহুদিন, বহুদিন-তবু আমি জানিএখনো কোনোদিন জ্যোৎস্নায় ভেসে যায় আকাশআমার জন্য প্রতীক্ষা করেনদীর কিনারার মাটি প্রতীক্ষা করে আছেআমার পদস্পর্শেরঘাসফুলটি হাওয়ায় দুলছে প্রতীক্ষায়আমি তাকে ছিঁড়ে নেবজলস্রোত ছলচ্ছল শব্দে আমায় ডাক পাঠাবেএই সব স্থির সত্য নিয়ে বেঁচে আছি ।

এক জীবন

শামুকের মতো আমি ঘরবাড়ি পিঠে নিয়ে ঘুরিএই দুনিয়ায় আমি পেয়ে গেছি অনন্ত আশ্রয়এই রৌদ্র বৃষ্টি, এই শতদল বৃক্ষের সংসারঅস্থায়ী উনুন, খুদ কুঁড়ো-আবার বাতাসে ওড়ে ছাইআমি চলে যাই দূরে, আমি তো যাবোই,জন্ম-মৃত্যু ছাড়া আমি কোনো সীমানা মেনেছি ?এ আকাশ আমারই নিজস্বআমার ইচ্ছেয় হয় তুঁতেনারী ও নদীরা সব আমারই নিলয়ে এসেপা ছড়িয়ে…

চোখ নিয়ে চলে গেছে

এই যে বাইরে হু হু করা ঝড়, এর চেয়ে বেশিবুকের মধ্যে আছেকৈশোরজুড়ে বৃষ্টিবিলাস, আকাশে থাকুক যত মেঘ,যত ক্ষণিকামেঘ উড়ে যায়আকাশ ওড়েনাআকাশের দিকেউঠছে নতুন সিড়িআমার দু বাহু একলা মাঠের জারুলের ডালপালাকাচ ফেলা নদী, যেন ভালোবাসাভালোবাসবার মতো ভালোবাসা-দু’দিকের পার ভেঙেনারীরা সবাই ফুলের মতন, বাতাসে ওড়ায়যখন তখনরঙ্গিন পাপড়িবাতাস তা জানে, নারীকে উড়াল দিয়ে…

দু’ পাশে

টেবিলের দুই প্রান্তে মুখোমুখি বসে থাকা, অন্তরীক্ষ চোখেচোখাচোখি করে আছেপলক পড়ার শব্দ, শুধু ক্ষণিকের অন্ধকারচোখের ভাষার কাছে মানুষের কৃতঘ্ন সভ্যতা থেমে থাকে ।আমিতো বুঝিনা ঐ ভাষা, বুঝি না নিজেরই চোখ কোন কথাবলে, তবু চেয়ে আছিপরষ্পর দুর্বোধ্যতা, ঢেকে রাখা বুক থেকে ক্ষীণ দীর্ঘশ্বাস-এর চেয়ে কত সোজা আঙুল স্পর্শের যোগাযোগ,কাঁধের ওপরে রাখাঅমার্জিত…

যে-যাই বলুক

যে-যাই বলুক, আমার ভীষণবেঁচে থাকতে ইচ্ছে করেসন্ধেবেলায় নীলচে আলোয় পথ ঘুরে যায় মোমিনপুরেআমি তখন কোন প্রবাসে, বেঁচে থাকার থেকেও দূরেঘুরে মরবো ! নরম হাতঠোঁট ছোঁবে না, চোখ ছোঁবে না ?যে-যাই বলুক , আমার ভীষণবেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে। মধ্য নিশীথ আমায় ডেকে দেখিয়েছিল হাস্নুহেনাসকালবেলার রোদে আমারশিশুকালের স্নেহ মমতাহাওয়ায় ওড়ে । শুন্য…

অন্যলোক

যে লেখে, সে আমি নয়কেন যে আমায় দোষী কর !আমি কি নেকড়ের মতো ক্রুদ্ধ হয়ে ছিড়েছি শৃঙ্খল ?নদীর কিনারে তার ছেলেবেলা কেটেছিলসে দেখেছে সংসারের গোপন ফাটলমাংসল জলের মধ্যে তার আয়না খুঁজেছে, ভেঙেছে ।আমি তো ইস্কুলে গেছি, বই পড়ে প্রকাশ্য রাস্তায়একটা চাবুক পেয়ে হয়ে গেছি শুন্যতায়ঘোড়সওয়ার ।যে লেখে সে আমি নয়যে…

ঘুরে বেড়াই

তোমার পাশে, এবং তোমার ছায়ার পাশেঘুরে বেড়াইতোমার পোষা কোকিল এবং তোমার মুখেবিকেলবেলা রোদের পাশেঘুরে বেড়াইতোমার ঘুমের এবং তোমার যখন তখন অভিমানেরঅর্থ খুঁজি অভিধানেঘুরে বেড়াই ঘুরে বেড়াইগাছের দিকে মেঘের দিকেবেলা শেষের নদীর দিকেপথ চেনেনা পথের মানুষঘুরে বেড়াই ঘুরে বেড়াইমেলা শেষের ভাঙা উনুন ছাইয়ের গাদায়ল্যাজ গুটানো একলা কুকুরপুকুর পাড়ে মাটির খুরি, সবুজ…

পরমা

বারেবারে চমকে উঠি, সে আসেনি ; গোধূলির আলোপশ্চিমে তির্যক হয়ে দেবদারু চুড়ায় দাড়ালো ।মন যদি নিভে যায় তবুও গভীরেরত্নের স্বন্ধানী চোখ বারে বারে আসে ঘুরে ফিরেখুঁজে পায় টুকরো, ভাঙা, শৈশব সুদূর ;আহত পাখির মতো শুন্যে কাঁপে যন্ত্রণার সুর ।নিজের দু’চোখে যদি মুকুরের রূপ মনে আসেতবে কার শান্ত ছবি, কার অত;আন্ত…

ব্যর্থ প্রেম

প্রতিটি ব্যর্থ প্রেমই আমাকে নতুন অহঙ্কার দেয়আমি মানুষ হিসেবে একটু লম্বা হয়ে উঠিদুঃখ আমার মাথার চুল থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্তছড়িয়ে যায়আমি সমস্ত মানুষের থেকে আলাদা হয়ে একঅচেনা রাস্তা দিয়ে ধীরে পায়েহেঁটে যাই সার্থক মানুষদের আরো-চাই মুখ আমার সহ্য হয় নাআমি পথের কুকুরকে বিস্কুট কিনে দিইরিক্সাওয়ালাকে দিই সিগারেটঅন্ধ মানুষের সাদা লাঠি…

কবিতা –

আমি তোমাকে এত বেশি স্বপ্নে দেখেছি যে তুমিতোমার বাস্তবতা হারিয়ে ফেলেছোএখনো কি সময় আছে তোমার জীবন্ত শরীর স্পর্শ করারএবং যে ওষ্ঠ থেকে আমার অতি প্রিয় স্বর জন্ম নেয়সেখানে চুম্বন দেবার?…আমি তোমাকে এত বেশি স্বপ্ন দেখেছি যে হয়তোআমার পক্ষে আর জাগাই সম্ভব হবে নাআমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমোই, আমার শরীর সবরকম জীবন…

সেদিন বিকেলবেলা

সাতশো একান্নতম আনন্দটি পেয়েছি সেদিনযখন বিকেলবেলা মেঘ এসেঝুঁকে পড়েছিলগোলাপ বাগানেএবং তোমার পায়ে ফুটে গেল লক্ষ্মীছাড়া কাঁটা!তখন বাতাসে ছিল বিহ্‌বলতা, তখন আকাশেছিল কৃষ্ণক্লান্তি আলো,ছিল না রঙের কোলাহলছিল না নিষেধ-অতটুকা ওষ্ঠ থিকে অতখানি হাসির ফোয়ারামন্দিরের ভাস্কর্যকে ম্লান করে নতুন দৃুশ্যটি। এর পরই বৃষ্টি আসে সাতশো বাহান্ন সঙ্গে নিয়েকরমচা রঙের হাত, চিবুকের রেখাচোখে…

উত্তরাধিকার

নবীন কিশোর, তোমায় দিলাম ভূবনডাঙার মেঘলা আকাশতোমাকে দিলাম বোতামবিহীন ছেঁড়া শার্ট আর. ফুসফুস-ভরা হাসিদুপুর রৌদ্রে পায়ে পায়ে ঘোরা, রাত্রির মাঠে চিৎ হ’য়ে শুয়ে থাকাএসব এখন তোমারই, তোমার হাত ভ’রে নাও আমার অবেলা. আমার দুঃখবিহীন দুঃখ ক্রোধ শিহরণনবীন কিশোর, তোমাকে দিলাম আমার যা-কিছু ছুল আভরণজ্বলন্ত বুকে কফির চুমুক, সিগারেট চুরি, জানালার…

কথা আছে

বহুক্ষণ মুখোমুখি চুপচাপ, একবার চোখ তুলে সেতুআবার আলাদা দৃষ্টি,টেবিলে রয়েছে শুয়েপুরোনো পত্রিকাপ্যান্টের নিচে চটি,ওপাশে শাড়ির পাড়ে দুটি পা-ই ঢাকাএপাশে বোতাম খোলা বুক, একদিন না-কামানো দাড়িওপাশে এলো খোঁপা, ব্লাউজের নীচে কিছু মসৃণ নগ্নতাবাইরে পায়ের শব্দ,দূরে কাছে কারা যায়কারা ফিরে আসেবাতাস আসেনি আজ, রোদ গেছে বিদেশ ভ্রমণে।আপাতত প্রকৃতির অনুকারী ওরা দুই মানুষ-মানুষী…

একটি কথা

একটি কথা বাকি রইলো থেকেই যাবেমন ভোলালো ছদ্মবেশী মায়াআর একটু দূর গেলেই ছিল স্বর্গ নদীদূরের মধ্যে দূরত্ব বোধ কে সরাবে।ফিরে আসার আগেই পেল খুব পিপাশাবালির নিচে বালিই ছিল, আর কিছুই নারৌদ্র যেন হিংসা, খায় সমস্তটা ছায়ারাত্রি যেমন কাঁটা, জানে শব্দভেদী ভাষা।বালির নিচে বালিই ছিল, আর কিছু নাএকটি কথা বাকি রইল,…

দাঁড়িয়ে রয়েছ তুমি

দাঁড়িয়ে রয়েছ তুমি বারান্দায়অহঙ্কার তোমাকে মানায় নাতুমি যে-কোনো নারীযে-কোন বারান্দা থেকেসন্ধ্যার শিয়রেমাথা রেখে আছো? তুমি তো আমারই শুধু ,দূর থেকে দেখাশুকনো চুল, ভিজে মুখ, করতলে মসৃন চিবুকতুমি নারী, অহঙ্কার তোমাকে মানায় না—যে তোমাকে দেখে, সে-ই তোমাকে সুন্দর করেদ্রষ্টা যে, ঈশ্বরও সে।তোমার নিঃসঙ্গ রূপ মেশে বাতাসের হাহাকারে ।

যদি নির্বাসন দাও

যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবোআমি বিষপান করে মরে যাবো ।বিষন্ন আলোয় এই বাংলাদেশনদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘপ্রান্তরে দিগন্ত নির্নিমেষ-এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভূমযদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবোআমি বিষপান করে মরে যাবো ।ধানক্ষেতে চাপ চাপ রক্তএইখানে ঝরেছিল মানুষের ঘামএখনো স্নানের আগে কেউ কেউ করে থাকে নদীকে…

চোখ ঢেকে

যে যেমন জীবন কাটায়তার ঠিক সেই রকম এক-একটি পোশাক রয়েছেআলো ও হাওয়ার মধ্যে লুটোপুটি খেয়ে কে যেআনন্দ-ভিখারীউড়ুনি ভিজিয়ে সেও বিধধংসী নদীর থেকেশান্তি চেয়েছিলসহসা বিদ্যুত-স্পর্শে চোখ ঢেকে আমিও একদাঅচেনা প্রান্তরে একা ছন্নছাড়া, সমূলে দেখেছিদিগম্বর মৃত্যু স্থির দাঁড়িয়ে রয়েছে ।

নীরার অসুখ

নীরার অসুখ হলে কলকাতার সবাই বড় দুঃখে থাকেসূর্য নিভে গেলে পর, নিয়নেরবাতিগুলি হঠাৎ জ্বলার আগে জেনে নেয়-নীরা আজ ভালো আছে? গীর্জার বয়স্ক ঘড়ি, দোকানের রক্তিম লাবণ্য–ওরা জানেনীরা আজ ভালো আছে!অফিস সিনেমা পার্কে লক্ষ লক্ষমানুষের মুখে মুখে রটে যায়নীরার খবরবকুলমালার তীব্র গন্ধ এসে বলে দেয়,নীরা আজ খুশি! হঠাৎ উদাস হাওয়া এলোমেলোপাগলা…

তুমি

আমার যৌবনে তুমি স্পর্ধা এনে দিলেতোমার দু’চোখে তবু ভূরুতার হিম।রাত্রিময় আকাশের মিলনান্ত নীলেছোট এই পৃথিবীকে করোছো অসীম।বেদনা মাধুর্যে গড়া তোমার শরীরঅনুভবে মনে হয় এখনও চিনি নাতুমিই প্রতীক বুঝি এই পৃথিবীরআবার কখনও ভাবি অপার্থিব কিনা।সারাদিন পৃথিবীকে সূর্যের মতনদুপুর-দগ্ধ পায়ে করি পরিক্রমা,তারপর সায়াহ্নের মতো বিস্মরণ-জীবনকে সি’র জানি তুমি দেবে ক্ষমা।তোমার শরীরে তুমি…

প্রেমিকা

কবিতা আমার ওষ্ঠ কামড়ে আদর করেঘুম থেকে তুলে ডেকে নিয়ে যায়ছাদের ঘরেকবিতা আমার জামার বোতাম ছিঁড়েছে অনেকহঠাৎ জুতোর পেরেক তোলে!কবিতাকে আমি ভুলে থাকি যদিঅমনি সে রেগে হঠাৎ আমায়ডবল ডেকার বাসের সামনে ঠেলে ফেলে দেয়আমার অসুখে শিয়রের কাছে জেগে বসে থাকেআমার অসুখ কেড়ে নেওয়া তার প্রিয় খুনসুটিআমি তাকে যদিআয়নার মতোভেঙ্গে দিতে…

অপমান এবং নীরাকে উত্তর

সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজনসিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজনসিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, নীরা, কেন হেসে উঠলে, কেনসহসা ঘুমের মধ্যে যেন বজ্রপাত, যেন সিঁড়িতে দাঁড়িয়েসিঁড়িতে দাঁড়িয়ে, নীরা, হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজনসিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে কেন সাক্ষী কেন বন্ধু কেন তিনজন…

ভালোবাসার পাশেই

ভালোবাসার পাশেই একটা অসুখ শুয়ে আছেওকে আমি কেমন করে যেতে বলিও কি কোনো ভদ্রতা মানবে না?মাঝে মাঝেই চোখ কেড়ে নেয়,শিউরে ওঠে গাভালোবাসার পাশেই একটা অসুখ শুয়ে আছে।দু’হাত দিয়ে আড়াল করা আলোর শিখাটুকুযখন তখন কাঁপার মতন তুমি আমার গোপনতার ভেতরেও ঈর্ষা আছে, রেফের মতনতীক্ষ্ম ফলাছেলেবেলার মতন জেদীএদিক ওদিক তাকাই তবু মন…

হঠাৎ নীরার জন্য

বাস স্টপে দেখা হলো তিন মিনিট, অথচ তোমায় কাল স্বপ্নেবহুক্ষণ দেখেছি ছুরির মতো বিঁধে থাকতে সিন্ধুপারে–দিকচিহ্নহীন–বাহান্ন তীর্থের মতো এক শরীর, হাওয়ার ভিতরেতোমাকে দেখছি কাল স্বপ্নে,নীরা, ওষধি স্বপ্নেরনীল দুঃসময়ে। দক্ষিণ সমুদ্রদ্বারে গিয়েছিলে কবে,কার সঙ্গে? তুমিআজই কি ফিরেছো?স্বপ্নের সমুদ্র সে কী ভয়ংকর,ঢেউহীন, শব্দহীন, যেনতিনদিন পরেই আত্মঘাতী হবে, হারানো আঙটির মতো দূরেতোমার দিগন্ত,…

নীরার জন্য কবিতার ভুমিকা

এই কবিতার জন্য আর কেউ নেই, শুধু তুমি, নীরাএ কবিতার মধ্যরাত্রে তোমার নিভৃত মুখ লক্ষ্য করেঘুমের ভিতরে তুমি আচমকা জেগে উঠে টিপয়েরথেকে জল খেতে গিয়ে জিভ কামড়ে এক মুহুর্ত ভাববেকে তোমায় মনে করছে এত রাত্রে — তখন আমারএই কবিতার প্রতিটি লাইন শব্দ অক্ষর কমা ড্যাশ রেফও রয়ের ফুটকি সমেত ছুটে…

নারী ও শিল্প

ঘুমন্ত নারীকে জাগাবার আগে আমি তাকে দেখিউদাসীন গ্রীবার ভঙ্গি, শ্লোকের মতন ভুরুঠোঁটে স্বপ্ন বিংবা অসমাপ্ত কথাএ যেন এক নারীর মধ্যে বহু নারী, বিংবাদর্পণের ঘরে বসচিবুকের ওপরে এসে পড়েছে চুলের কালো ফিতেসরিয়ে দিতে ইচ্ছে করে না, কেননা আবহমান কালথেকে বেণীবন্ধনের বহু উপমা কয়েছেআঁচল ঈষৎ সরে গেছে বুক থেকে-এর নাম বিস্রস্ত,এ রকম…

নীরার দুঃখকে ছোঁয়া

কতটুকু দূরত্ব? সহস্র আলোকবর্ষ চকিতে পার হয়েআমি তোমার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসিতোমার নগ্ন কোমরের কাছে উষ্ণ নিশ্বাস ফেলার আগেঅলঙ্কৃত পাড় দিতে ঢাকা অদৃশ্য পায়ের পাতা দুটিবুকের কাছে এনেচুম্বন ও অশ্রুজলে ভেজাতে চাইআমার সাঁইত্রিশ বছরের বুক কাঁপেআমার সাঁইত্রিশ বছরের বাইরের জীবন মিথ্যে হয়ে যায়বহুকাল পর অশ্রু বিস্মৃত শব্দটিঅসম্ভব মায়াময় মনে…

দ্বারভাঙা জেলার রমণী

হাওড়া ব্রীজের রেলিং ধরে একটু ঝুঁকে দাঁড়িয়েছিলদ্বারভাঙা জেলা থেকে আসা টাট্‌কা রমনীব্রীজের অনেক নিচে জল, সেখানে কোনো ছায়া পড়ে নাকিন্তু বিশাল এক ভগবতী কুয়াশা কলকাতার উপদ্রুত অঞ্চল থেকেগড়িয়ে এসেসভ্যতার ভূমধ্য অরিন্দে এসে দাঁড়ালোসমস্ত আকাশ থেকে খসে পড়লো ইতিহাসের পাপমোচানবারী বিষণ্ণতাক্রমে সব দৃশ্য, পথ ও মানুষ মুছে যায়, কেন্দ্রবিন্দুতে শুধু রইলো…

পতন

স্মৃতি এসে বলে ঃ পূর্ব দিকে যাও, তোমার নিয়তিপ্রতীক্ষায় আছে-আমি তাকে চোখ তুলে দেখাই ও প্রাসাদের বিশাল পতন-ভাঙে হৃদয় গম্বুজ, ইটকাঠ, ভয়ঙ্কর শব্দে পড়েকড়ি বরগাপিতার টেম্পারা ছবি, জংধরা সিন্দুকওড়ে সিন্দুর মাখানো রাজমুদ্রা, শূন্য খাঁচা, অবিরলমেঘের গর্জনমায়ের দুঃখিত মুখ, নবীনা নারীর চোখ ভেসে যায়ভেসে যায় স্তনযোগে প্রথম উষ্ণতা,ওকি অসম্ভব শব্দ, প্রবল…

বাড়ি ফেরা

রাত্তির সাড়ে বারোটায় বৃষ্টি, দুপুরে অত্যন্ত শুক্‌নো এবং ঝক্‌ঝকেছিল পথ, মেঘ থেকে কাদা ঝরেছে, খুবই দুঃখিত মূর্তি একাহেঁটে যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে, কালো ভিজে চুপচাপ দ্বিধায়ট্রাম বাস বন্ধ, রিক্সা ট্যাক্সি-পকেটে নেই, পৃথিবী তল্লাসী হয়ে গেছে পরশুদিনপুলিশের হাতে শাস্তি এখন, অথবা নির্জনতাই প্রধান অস্ত্র এই বুধবার রাত্তিরে।অনেক মোটরকারের শব্দ হয় না, ঘুমন্ত…

যা চেয়েছি যা পাবো না

যা চেয়েছি, যা পাবো না-কী চাও আমার কাছে ?-কিছু তো চাইনি আমি ।-চাওনি তা ঠিক । তবু কেনএমন ঝড়ের মতো ডাক দাও ?-জানি না । ওদিকে দ্যাখোরোদ্দুরে রুপোর মতো জলতোমার চোখের মতোদূরবর্তী নৌকোচর্তুদিকে তোমাকেই দেখা-সত্যি করে বলো, কবি, কী চাও আমার কাছে ?-মনে হয় তুমি দেবী…-আমি দেবী নই ।-তুমি তো…

নারী

নাস্তিকেরা তোমায় মানে না, নারীদীর্ঘ-ঈ-কারের মতো তুমি চুল মেলেবিপ্লবের শত্রু হয়ে আছো !এমন কি অদৃশ্য তুমি বহু চোখেকত লোক নামই শোনেনিযেমন জলের মধ্যে মিশে থাকেজল-রং-আলো…তারা চেনে প্রেমিকা বা সহোদরাজননী বা জায়াদুধের দোকানে মেয়ে, কিংবা যারানাচে গায়রান্না ঘরে ঘামেশিশু কোলে চৌরাস্তায় বাড়ায় কঙ্কাল হাতফ্রক কিংবা শাড়ি পরে দুঃখে ইস্কুলে যায়মিস্তিরির পাশে…

কিছু পাগলামি

জুলপি দুটো দেখতে দেখতে শাদা হয়ে গেল!আমাকে তরুণ কবি বলে কেউ ভুলেও ভববে নাপরবর্তী অগণন তরুণেরা এসেছে সুন্দর ক্রুদ্ধ মুখেতাদের পৃথিবী তারা নিজস্ব নিয়মে নিয় নিক!আমি আর কফি হাউস থেকে হেঁটে হেঁটে হেঁটেনিরুদ্দিষ্ট কখনো হবে নাআমি আর ধোঁয়া দিয়ে করবো না ক্ষিদের আচমন্‌‌!আমি আর পকেটে কবিতা নিয়ে ভেরবেলাবন্ধবান্ধবের বাড় যাবো…

নীরার পাশে তিনটি ছায়া

নীরা এবং নীরার পাশে তিনটি ছায়াআমি ধনুকে তীর জুড়েছি, ছায়া তবুও এত বেহায়াপাশ ছাড়ে নাএবার ছিলা সমুদ্যত, হানবো তীর ঝড়ের মতো–নীরা দু’হাত তুলে বললো, ‘মা নিষাদ!ওরা আমার বিষম চেনা!’ঘূর্ণি ধুলোর সঙ্গে ওড়ে আমার বুক চাপা বিষাদ–লঘু প্রকোপে হাসলো নীরা, সঙ্গে ছায়া-অভিমানীরাফেরানো তীর দৃষ্টি ছুঁয়ে মিলিয়ে গেলনীরা জানে না!

অনর্থক নয়

বেয়ারা পাঠিয়ে কারা টাকা তোলে ব্যঙ্ক থেকে?আমি তো নিজের সইটা এখনো চিনি নাবিষম টাকার অভাব!নেই। শুধু হৃৎপিন্ড হাওয়া টেনে নেয়েহাসি কুলকুচো করি। মাথায় মুকুট নেই বলেকেউ ধার দিতেও চায় না।কিছু টাকা জমা আছে ব্লাড ব্যাঙ্কে। সামান্য।কাঁটা ছাড়ানো মাছের মতনগদ্য লিখলে ক্যাশ আসে। পারি না। কবিতায় দশ টাকাতাই বা মন্দ কি,…

নীরার হাসি ও অশ্রু

নীরার চোখের জল অনেক চোখের অনেকনীচেটল্‌মল্‌নীরার মুখের হাসি মুখের আড়াল থেকেবুক, বাহু, আঙুলেছড়ায়শাড়ির আঁচলে হাসি, ভিজে চুলে, হেলানো সন্ধ্যায় নীরাআমাকে বাড়িয়ে দেয়, হাস্যময় হাতআমার হাতের মধ্যে চৌরাস্তায় খেলা করে নীরার কৌতুকতার ছদ্মবেশ থেকে ভেসে আসে সামুদ্রিক ঘ্রাণসে আমার দিকে চায়, নীরার গোধূলি মাখা ঠোঁট থেকেঝরে পড়ে লীলা লোধ্রআমি তাকে প্রচ্ছন্ন…

চায়ের দোকানে

লণ্ডনে আছে লাস্ট বেঞ্চির ভীরু পরিমল,রথীন এখন সাহিত্যে এক পরমহংসদীপু তো শুনেছি খুলেছে বিরাট কাগজের কলএবং পাঁচটা চায়ের বাগানে দশআনি অংশতদুপরি অবসর পেলে হয় স্বদেশসেবক;আড়াই ডজন আরশোলা ছেড়ে ক্লাস ভেঙেছিল পাগলা অমলসে আজ হয়েছে মস্ত অধ্যাপক!কি ভয়ংকর উজ্জ্বল ছিল সত্যশরণসে কেন নিজের কণ্ঠ কাটলো ঝকঝকে ক্ষুরে –এখনো ছবিটি চোখে ভাসলেই…

কেউ শুধালোনা

মাথায় একটা ডান্ডা, একটা বুনো শব্দ, শেষ !লোকটা মরে পড়ে রইলো,লোকটা মরে পড়ে রইলো শিশির ভেজা মাঠে ! লোকটা কোনো শিশুর গালেদেয়নি বুঝি টোকা ?ঘোমটা পরা নারীর হাত মুঠোয় ধরেপার হয়নি মাঠের রেললাইন ?এই লোকটি মাটিকে ভালোবাসেনি ?এই লোকটি ধানের গন্ধ নেয়নি ?এই লোকটি শীতের রাতে নিজের গায়ের কাঁথাদেয়নি অন্যকে…

কৃত্তিবাস

ছিলে কৈশোর যৌবনের সঙ্গী, কত সকাল,কত মধ্যরাত,সমস্ত হল্লার মধ্যে ছিল সুতো বাঁধা,সংবাদপত্রের খুচরো গদ্যআর প্রইভেট টিউশানির টাকার অর্ঘ্যদিয়েছি তোমাকে, দিয়েছি ঘাম,ঘোরঘুরি, ব্লক, বিজ্ঞাপন, নবীন কবিরকম্পিত বুক, ছেঁড়া পাঞ্জাবিও পাজামা পরে কলেজপালানো দুপুর,মনে আছে মোহনবাগানলেনের টিনের চালের ছাপাখানায়প্রুফ নিয়ে বসে থাকা ঘন্টার পরঘন্টা, প্রেসের মালিক কলতেন,খোকা ভাই, অত চার্মিনার খেও না,গা…

ইচ্ছে

কাচের চুড়ি ভাঙ্গার মতন মাঝে মাঝেই ইচ্ছে হয়,দুটো চারটে নিয়ম কানুন ভেঙে ফেলিপায়ের তলায় আছড়ে ফেলি মাথার মুকুটযাদের পায়ের তলায় আছি, তাদের মাথায় চড়ে বসিকাচের চুড়ি ভাঙ্গার মতোই ইচ্ছে করে অবহেলায়ধর্মতলায় দিন দুপুরে পথের মধ্যে হিসি করি।ইচ্ছে করে দুপুরে রোদে ব্ল্যাক আউটে হুকুম দেবারইচ্ছে করে বিবৃতি দেই ভাওতা মেরে জনসেবারইচ্ছে…

কেউ কথা রাখেনি

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনিছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিলশুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবেতারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমীআর এলোনাপঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি। মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুরতোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবোসেখানে…

আত্মকাহিনী

রোজ সকালে শুয়ে শুয়ে ভাবি উঠি কিনা উঠি,সামনে টেবিলে চায়ের পেয়ালা সেকা পাউরুটি।সতেজ কাগজে পরিচিত ঘ্রাণ, চেনা সংবাদবন্যা, মন্ত্রী, শান্তির বাণী, শরিকি বিবাদ।জানালার পাশে এই সংসার দিল তার ডাকথাক আলস্য, এইবার তাহলে উঠে পড়া যাক।গত রাত্রিকে বিছানায় ফেলে বাইরে এলামচোখে মুখে গায়ে পৃথিবী লিখলো সূর্যের নামসে নাম থাকবে চিরদিন ধরে…

চে গুয়েভারার প্রতি

চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়আমার ঠোঁট শুকনো হয়ে আসে, বুকের ভেতরটা ফাঁকাআত্মায় অভিশ্রান্ত বৃষ্টিপতনের শব্দশৈশব থেকে বিষণ্ন দীর্ঘশ্বাসচে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরধী করে দেয়-বোলিভিয়ার জঙ্গলে নীল প্যান্টালুন পরাতোমার ছিন্নভিন্ন শরীরতোমার খোলা বুকের মধ্যখান দিয়েনেমে গেছেশুকনো রক্তের রেখাচোখ দুটি চেয়ে আছেসেই দৃষ্টি এক গোলার্ধ থেকে চুটে আসে অন্য গোলার্ধেচে,…

যদি নির্বাসন দাও

যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবোআমি বিষপান করে মরে যাবো ।বিষন্ন আলোয় এই বাংলাদেশনদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘপ্রান্তরে দিগন্ত নির্নিমেষ-এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভূমযদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবোআমি বিষপান করে মরে যাবো ।ধানক্ষেতে চাপ চাপ রক্তএইখানে ঝরেছিল মানুষের ঘামএখনো স্নানের আগে কেউ কেউ করে থাকে নদীকে…

ব্যর্থ প্রেম

প্রতিটি ব্যর্থ প্রেমই আমাকে নতুন অহঙ্কার দেয়আমি মানুষ হিসেবে একটু লম্বা হয়ে উঠিদুঃখ আমার মাথার চুল থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্তছড়িয়ে যায়আমি সমস্ত মানুষের থেকে আলাদা হয়ে একঅচেনা রাস্তা দিয়ে ধীরে পায়েহেঁটে যাই সার্থক মানুষদের আরো-চাই মুখ আমার সহ্য হয় নাআমি পথের কুকুরকে বিস্কুট কিনে দিইরিক্সাওয়ালাকে দিই সিগারেটঅন্ধ মানুষের সাদা লাঠি…

মন ভাল নেই

মন ভাল নেই মন ভাল নেই মন ভাল নেইকেউ তা বোঝে না সকলি গোপন মুখে ছায়া নেইচোখ খোলা তবু চোখ বুজে আছি কেউ তা দেখেনিপ্রতিদিন কাটে দিন কেটে যায় আশায় আশায়আশায় আশায় আশায় আশায়এখন আমার ওষ্ঠে লাগে না কোনো প্রিয় স্বাদএমনকি নারী এমনকি নারীএমনকি নারীএমন কি সুরা এমন কি ভাষামন…

জন্ম হয়না, মৃত্যু হয়না

আমার ভালোবাসার কোন জন্ম হয়নামৃত্যু হয়না–কেননা আমি অন্যরকম ভালোবাসার হীরের গয়নাশরীরে নিয়ে জন্মেছিলাম।আমার কেউ নাম রাখেনি, তিনটে চারটে ছদ্মনামেআমার ভ্রমণ মর্ত্যধামে,আগুন দেখে আলো ভেবেছি, আলোয় আমারহাত পুড়ে যায়অন্ধকারে মানুষ দেখা সহজ ভেবে ঘুর্ণিমায়ায়অন্ধকারে মিশে থেকেছিকেউ আমাকে শিরোপা দেয়, কেউ দু’ চোখে হাজার ছি ছিতবুও আমার জন্ম-কবচ, ভালোবাসাকে ভালোবেসেছিআমার কোন ভয়…

তোমার কাছেই

সকাল নয়, তবু আমারপ্রথম দেখার ছটফটানিদুপুর নয়, তবু আমারদুপুরবেলার প্রিয় তামাশাছিল না নদী, তবুও নদীপেরিয়ে আসি তোমার কাছেতুমি ছিলে না তবুও যেনতোমার কাছেই বেড়াতে আসা!শিরীষ গাছে রোদ লেগেছেশিরীষ কোথায়, মরুভূমি!বিকেল নয়, তবু আমারবিকেলবেলর ক্ষুৎপিপাসাচিঠির খামে গন্ধ বকুলতৃষ্ণা ছোটে বিদেশ পানেতুমি ছিলে না তবুও যেনতোমার কাছেই বেড়াতে আসা!

শুধু কবিতার জন্য

শুধু কবিতার জন্য এই জন্ম, শুধু কবিতারজন্য কিছু খেলা, শুধু কবিতার জন্য একা হিম সন্ধেবেলাভুবন পেরিয়ে আসা, শুধু কবিতার জন্যঅপলক মুখশ্রীর শান্তি একঝলক;শুধু কবিতার জন্য তুমি নারী, শুধুকবিতার জন্য এতো রক্তপাত, মেঘে গাঙ্গেয় প্রপাতশুধু কবিতার জন্য, আরো দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে লোভ হয়।মানুষের মতো ক্ষোভময় বেঁচে থাকা, শুধুকবিতার জন্য আমি অমরত্ব…

দেখা

ভালো আছো?– দেখো মেঘ বৃষ্টি আসবে।ভালো আছো? – দেখো ঈশান কোনের আলো, শুনতে পাচ্ছো ঝড়?ভালো আছো?-এইমাত্র চমকে উঠলো ধপধপে বিদ্যুৎ ।ভালো আছো?– তুমি প্রকৃতিকে দেখো।– তুমি প্রকৃতি আড়াল করে দাঁড়িয়ে রয়েছো।আমিতো অণুর অণু, সামান্যর চেয়েও সামান্য।তুমি জ্বালাও অগ্নি, তোল ঝড়, রক্তে এতো উন্মাদনা।– দেখো সত্যিকার বৃষ্টি, দেখো সত্যিকার ঝড়।তোমাকে দেখাই…

প্রজন্ম চত্তর থেকে উনিশশো একাত্তর

মা, তোমার কিশোরী কন্যাটি আজ নিরুদ্দেশমা, আমারও পিঠোপিঠি ছোট ভাইটি নেইনভেম্বরে দারুণ দুর্দিনে তাকে শেষ দেখিঘোর অন্ধকারে একা ছুটে গেল রাইফেল উদ্যত।এখন জয়ের দিন, এখন বন্যার মত জয়ের উল্লাসজননীর চোখ শুকনো, হারান কন্যার জন্য বৃষ্টি নামেহাতখানি সামনে রাখা, যেন হাত দর্পন হয়েছেআমারো সময় নেই, মাঠে কনিষ্ঠের লাশ খুঁজে ফিরি।যে যায়…

গণদাবি

বিমানে উড়তে তিরিশ মিনিটএতো কাছে তবু দূরবিলকুল নেই পাসপোর্ট ভিসাসীমানা চেনেনা সুর। সীমানা চিনিনা আছি শাহবাগেআমার গীটারও আছে,বসন্ত আজ বন্ধুরা দেখোগণদাবী হয়ে বাঁচে। বাঁচো গণদাবী, বাঁচো গণদাবীআসল বিচার চাই,যার যা পাওনা তাকে সেটা দাওগণদাবী একটাই।

আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি

আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশএই কি মানুষজন্ম ? নাকি শেষপুরোহিত-কঙ্কালের পাশা খেলা ! প্রতি সন্ধেবেলাআমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে, হৃদয়কে অবহেলাকরে রক্ত; আমি মানুষের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসেথাকি – তার ভেতরের কুকুরটা দেখব বলে। আমি আক্রশেহেসে উঠি না, আমি ছারপোকার পাশে ছারপোকা…

জনমদুখিনী

যতদিন ছিলে তুমি পরাধীনা ততদিন ছিলে তুমি সবার জননীএখন তোমাকে আর মা বলে ডাকেনা কেউলেখেনা তোমার নামে কবিতাবুক মোচড়ানো সুরে সেইসব গানগুপ্ত কুঠুরিতে মৃদু মোমের আলোর সামনে আবেগের মাতামাতিজনমদুখিনী মা কোনদিন স্বাধীনা হলেনাএখন তোমাকে আর ভুলেও ডাকেনা কেউআঁকেনা তোমার কোন ছবিকেউ কারো ভাই নয়, রক্তের আত্মীয় নয়নদীর এপার দিয়ে, নদীর…

আমার কৈশোর

শিউলি ফুলের রাশি শিশিরের আঘাতও সয় নাঅন্তর আমার কৈশোরে তারা এ-রকমই ছিলএখন শিউলি ফুলের খবরও রাখি না অবশ্যজানি না, তারা স্বভাব বদলেছে কিনা।আমার কৈশোরে শিউলির বোঁটার রং ছিল শুধুশিউলির বোঁটারই মতনকোনো কিছুর সঙ্গেই তার তুলনা চলতো নাআমার কৈশোরে পথের ওপর ঝরে পড়ে থাকাশিশির মাখা শিউলির ওপর পা ফেললেপাপ হতেআমার পাপ…

জয়ী নই, পরাজিত নই

পাহাড়-চুড়ায় দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিলআমি এই পৃথিবীকে পদতলে রেখেছিএই আক্ষরিক সত্যের কছে যুক্তি মূর্ছা যায়।শিহরিত নির্জনতার মধ্যে বুক টন্‌‌টন করে ওঠেহাল্‌কা মেঘের উপচ্ছায়ায় একটি ম্লান দিনসবুজকে ধূসর হতে ডাকেআ-দিগন্ত প্রান্তের ও টুকরো ছড়ানো টিরার উপর দিয়েভেসে যায় অনৈতিহাসিক হাওয়াঅরণ্য আনে না কোনো কস্তুরীর ঘ্রাণকিছু নিচে ছুটন্ত মহিলার গোলাপি রুমাল উড়ে গিয়ে…

নীরা তুমি কালের মন্দিরে

চাঁদের নীলাভ রং, ওইখানে লেগে আছে নীরার বিষাদও এমন কিছু নয়, ফুঁ দিলেই চাঁদ উড়ে যাবেযে রকম সমুদ্রের মৌসুমিতা, যে রকমপ্রবাসের চিঠিঅরণ্যের এক প্রান্তে হাত রেখে নীরা কাকে বিদায় জানালোআঁচলে বৃষ্টির শব্দ, ভুরুর বিভঙ্গে লতা পাতাও যে বহুদূর,পীত অন্ধকারে ডোবে হরিৎ প্রান্তরওখানে কী করে যাবো, কী করে নীরাকেখুঁজে পাবো?অক্ষরবৃত্তের মধ্যে…

তমসার তীরে নগ্ন শরীরে

চিত্ত উতলা দশদিকে মেলা সহস্র চোখআমাকে এবার ফিরিয়ে নেবার জন্য এসেছে?আর দুটো দিন করুণ রঙিনপথ ঘুরে দেখাহবে না আমার? পুরোনো জামার ছিঁড়েছে বোতাম?তমসার তীরে নগ্ন শরীরেদাঁড়ালাম আমিপাশে নেই আর মায়া-সংসার আকাশে অশনিনদীটি এখন বড় নির্জনজলে শীত ছোঁওয়াকে জানে কোথায় ন্যায়-অন্যায় সহসা লুকালোএক অঞ্জলি জল তুলে বলি,হে আঁধারবতী,বহু ঘুরে-ঘুরে স্বপ্নে সুদূরে…

জাগরণ হেমবর্ণ

জাগরণ হেমবর্ণ, তুমি ওকে সন্ধ্যায় জাগাওআরও কাছে যাওও কেন হিংসার মতো শুয়ে আছে যাখন পৃথিবী খুবশৈশবের মতো প্রিয় হলোজল কনা- মেশা হওয়া এখন এ আশ্বিনের প্রথম সোপানেবারবার হাতছানি দিয়ে ডেকে যায়আরও কাছে যাওজাগরণে হেমবর্ণ, তুমি ওকে সন্ধ্যায় জাগাও।মধু-বিহ্বলেরা কাল রাত্রিকে খেলার মাঠ করেছিলঘাসের শিশিরে তার খণ্ডচিহ্নট্রেনের শব্দের মতো দিন এলে…

যা চেয়েছি যা পাবো না

যা চেয়েছি, যা পাবো না-কী চাও আমার কাছে ?-কিছু তো চাইনি আমি ।-চাওনি তা ঠিক । তবু কেনএমন ঝড়ের মতো ডাক দাও ?-জানি না । ওদিকে দ্যাখোরোদ্দুরে রুপোর মতো জলতোমার চোখের মতোদূরবর্তী নৌকোচর্তুদিকে তোমাকেই দেখা-সত্যি করে বলো, কবি, কী চাও আমার কাছে ?-মনে হয় তুমি দেবী…-আমি দেবী নই ।-তুমি তো…

এক জীবন

শামুকের মতো আমি ঘরবাড়ি পিঠে নিয়ে ঘুরিএই দুনিয়ায় আমি পেয়ে গেছি অনন্ত আশ্রয়এই রৌদ্র বৃষ্টি, এই শতদল বৃক্ষের সংসারঅস্থায়ী উনুন, খুদ কুঁড়ো-আবার বাতাসে ওড়ে ছাইআমি চলে যাই দূরে, আমি তো যাবোই,জন্ম-মৃত্যু ছাড়া আমি কোনো সীমানা মেনেছি ?এ আকাশ আমারই নিজস্বআমার ইচ্ছেয় হয় তুঁতেনারী ও নদীরা সব আমারই নিলয়ে এসেপা ছড়িয়ে…

ব্যর্থ প্রেম

প্রতিটি ব্যর্থ প্রেমই আমাকে নতুন অহঙ্কার দেয়আমি মানুষ হিসেবে একটু লম্বা হয়ে উঠিদুঃখ আমার মাথার চুল থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্তছড়িয়ে যায়আমি সমস্ত মানুষের থেকে আলাদা হয়ে একঅচেনা রাস্তা দিয়ে ধীরে পায়েহেঁটে যাই সার্থক মানুষদের আরো-চাই মুখ আমার সহ্য হয় নাআমি পথের কুকুরকে বিস্কুট কিনে দিইরিক্সাওয়ালাকে দিই সিগারেটঅন্ধ মানুষের সাদা লাঠি…

বিবৃতি

ঊনিশে বিধবা মেয়ে কায়ক্লেশে উন্‌তিরিশে এসেগর্ভবতী হলো, তার মোমের আলোর মতো দেহকাঁপালো প্রাণান্ত লজ্জা, বাতারে কুটিল সন্দেহসমস্ত শরীরে মিশে, বিন্দু বিন্দু রক্ত অবশেষেযন্ত্রনার বন্যা এলো, অন্ধ হলো চক্ষু, দশ দিক,এবং আড়ালে বলি, আমিই সে সুচতুর গোপন প্রেমিক।দিবাসার্ধ পায়ে হেঁটে লিরি আমি জীবিকার দাসত্ব-ভিখারীক্লান্ত লাগে সারারাত, ক্লান্তি যেন অন্ধকার নারী।একদা অসহ্য…

নিজের আড়ালে

সুন্দর লুকিয়ে থাকে মানুষের নিজেরই আড়ালেমানুষ দেখ নাসে খোজে ভ্রমর কিংবাদিগন্তের মেঘের সংসারআবার বিরক্ত হয়কতকাল দেখা না আকাশকতকাল নদী বা ঝর্ণায় আরদেখে না নিজের মুখআবর্জনা, আসবাবে বন্দী হয়ে যায়সুন্দর লুকিয়ে থাকে মানুষের নিজেরই আড়ালেরমণীর কাছে গিয়েবারবার হয়েছে কাঙ্গালযেমন বাতাসে থাকে সুগন্ধের ঋণবহু দূরের স্মৃতি আবার কখন মুছে যায়অসম্ভব অভিমানে খুন…

বহুদিন পর প্রেমের কবিতা

বুকের ভিতরে যেন মুচড়ে উঠলো একুশে এপ্রিলএকুশে এপ্রিল, ওকি চুলের ভিতরে কার ক্ষীণ বজ্রমুষ্টি?বিষম লোভের মধ্যে ছুটোছুটি – দূর শহর, অব্যক্ত মন্দিরেব্রীজের অনেক নীচে চাঁদ, আঃ সহ্য হয় না এমন জ্যোৎস্নায়জলের বিমর্ষ শব্দ, এক আনার টিকিট পেরিয়েওপারে পৌঁছুলে ট্রেন, স্টেশনের একুশে এপ্রিলরাত্রি দিয়েছিল।চোরকাঁটা ভরা মাঠে মরা সাপ, যেও না ডিয়ারআর…

মুক্তি

একজন মানুষ মুক্তিফল আনতে গিয়েছিল,সে বলেছিল, আমি ফিরে আসবোপ্রতীক্ষায় থেকো।জানিনা সে কোথায় গেছেকোন হিম নিঃসংগ অরণ্যেবা কোন নীলিমাভুক পাহাড় চুড়ায়জানিনা তার সামনে কত দুস্তর বাধাজানিনা সে সংগ্রাম করছে কোনঅসহনীয়ের সঙ্গে।সে মুক্তিফল আনবে বলেছিলসে বলেছিল প্রতীক্ষায় থাকতেআমি দ্বাদশ বৎসর থাকবো তার জন্য পথ চেয়েতারপরেও সে না ফিরলেআমাকে যেতে হবে……আমিও না ফিরলে…

এখনো সময় আছে

তখন তোমার বয়স আশী, দাঁড়াবে গিয়ে আয়নায়নিজেই ভীষণ চমকে যাবে, ভাববে এ কে ? সামনে এ কোন ডাইনী ?মাথা ভর্তি শনের নুড়ি, চামড়া যেন চোত-বোশেখের মাটিচক্ষু দুটি মজা-পুকুর, আঙুলগুলো পাকা সজনে ডাটা !তোমার দীর্ঘষ্বাস পড়বে, চোখের কোণে ঘোলা জলের ফোটায়মনে পড়বে পুরনো দিন, ফিসফিসিয়ে বলবে তুমি,আমারও রূপ ছিল !আমার রূপের…

কই, কেউ তো ছিলো না

কেউ কেউ ভালোবেসে ভুল করে, কেউ কেউ ভালোই বাসেনাকেউ কেউ চতুরতা দিয়ে খায় পৃথিবীকে, কেউ কেউ বেলা যায়ফিরেও আসে না । ওপরে চাঁদের কাছে মেঘ জমে পাহাড়ের মেষ তৃণে আগুনলেগেছেযাদের বাঁচার কথা ছিল, নেই, ভুল মানুষেরা আছে বেঁচে । স্বপ্ন বারবার ভাঙে, তবু ফের স্বপ্ন উপাদান দেয় অচেনা নারীরাতাদের গলায়…